Posts

অভিশাপ কি? অভিশাপ থেকে দূরে থাকার উপায় জানুন

Image
🛑#অভিশাপ কী❓ #অভিশাপ সত্যই দেওয়া যায়। জানুন ও অভিশাপ থেকে দূরে থাকুন🚩🚩🚩 ✍️✍️👉আমরা অনেকেই অভিশাপের নাম শুনি। অভিশাপের অনেক ক্ষমতা। আমাদের পুরাণ গুলিতে অভিশাপের অজস্র ঘটনা বর্তমান। সাধারণত বলা যায়--- কেউ ক্রুদ্ধ হয়ে, বা দুঃখিত হয়ে, বা লাঞ্ছিত হয়ে দোষীর সর্বনাশ কামনা করাই অভিশাপ। 👉অভিশাপ দুরকম -- একটা তান্ত্রিক অভিশাপ অপরটি দৈবিক অভিশাপ। দুই অভিশাপেরই ক্ষমতা সমান। 🚩তান্ত্রিক অভিশাপ হল -- পূর্বেই দোষীকে শাপ দিয়ে পড়ে তন্ত্র দ্বারা নানান পূজা করে দোষীর অমঙ্গল ঘটনো হয়। 🚩দৈবিক অভিশাপ হল --ত্রিদেব, সূর্য, চন্দ্র, দেবতা, গঙ্গা যমুনা কে সাক্ষী করে অভিশাপ দেওয়া। 🌷অভিশাপ দিতে হলে খুব তপঃ শক্তি লাগে। কারন এতে অনেক তপঃ শক্তি নষ্ট হয়। আবার সব সময় এমন যুক্তি খাটেও না। অনেক সময় শয়তান লোকের অভিশাপ লেগে যায়। আসলে ব্যাপার টা হল এমন- আমি একটা বিশাল পাথর ছুড়ে কাউকে মারতে চাই, তাহলে আগে আমাকে সেই বিশাল পাথর তোলার শক্তি অর্জন করতে হবে। একটা পাঁচ বছরের শিশু নিশ্চয়ই বিশাল পাথর তুলতে পারবে না। ঠিক তেমনই তপঃ শক্তি না হলে শাপ দেওয়া যায় না। 🖋️সাধারণত তেজস্বী ব্রাহ্মণ, সাধু, সন্ত, বিধবা নারী, লাঞ্ছিতা কন্যা...

তিলক বিষয় আলোচনা

Image
আজকের আলোচনা- "তিলক"। আমাদের দেশে খুব অল্প মানুষ তিলক কপালে দেয়। আমরা দেখতে পারি কোন নামযজ্ঞ কিংবা কির্তনে গেলে মানুষের কপালে তিলক দেওয়া হয়। আমরা সাধারণত দেখি বয়স্ক মানুষদের তিলক কপালে দিতে। কিন্তু ধর্ম মানুষের বুড় বয়সে করবার জন্য নয়। শিশু কাল থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আমাদের হরি নাম করা উচিত। কপালে তিলক দিয়ে হরি নাম করলে হরি কৃপা অবশ্যই করে। আসুন আজ আমরা তিলকের মহিমা জানি। 👉আমরা যে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করবো তা সংক্ষেপে একটি ধারণা দিলাম নিচেঃ ১/ তিলকের উৎপত্তি কিভাবে। ২/ তিলকে কে কোথায় বাস করেন। ৩/ শ্রীকৃষ্ণ তিলক পরেন কেন। ৪/ শ্রীরাধা রানী তিলক পরেন না কেন। ৫/ তিলক ছাড়া সন্ধ্যা-বন্দনা হবে কি না। ৬/ তিলক দেখে যমরাজ কেন পালায়। "যজ্ঞো দানং তপো হোমঃ স্বাধ্যায়ঃ পিতৃতর্পণম্। ব্যর্থং ভব তত্ সর্বমূর্দ্ধপূনড্রং বিনাকৃতং পদ্মপুরাণ ।" অর্থাৎঃ তিলক ব্যতিরেকে যজ্ঞ ,দান, তপস্যা ,হোম ,বেদ শাস্ত্রাদি পাঠ, পিতৃতর্পণাদি ও শুভ কর্ম যা কিছু করা হয় তা বৃথা হয়ে যায়। অনেকেই কিন্তু তিলকের ফোঁটা দেন কিন্তু সেটা ঠিক নয়। উর্দ্ধপূনড্র করে অর্থাৎ গৌড়ীয় বৈষ্ণব যেভাবে পরেন। 👉"তিলকের মহিমা...

দুঃখের পুটলী

Image
#দুঃখের_পুটলী। একবার এক দুঃখী ভক্ত ভগবানের কাছে নালিশ করছিল।বলছিল,হে ভগবান!তুমি আমার একটুও খেয়াল রাখোনা।আমি তোমার কত বড় একজন ভক্ত, তোমাকে কত সেবা করি, দিনরাত তোমাকে ডাকি, এরপরেও আমার জীবনে বেশি বেশি দুঃখ। কেন? সমস্যার পাহাড় তো লেগেই আছে।একটা শেষ হতে না হতেই আরেকটা সমস্যা এসে পড়ে।অন্যদের প্রার্থনা তো তুমি শোন, ওরা যা চায় তাও দিচ্ছ। সবার ভাগ্যে সুখ দিচ্ছ, আর আমার বেলায় কেবল দুঃখই দিয়ে যাচ্ছ। কেন? তখন ভগবান তাকে আদর করে বোঝান, না পুত্র!তুমি যা ভাবছ,তা নয়।সবার নিজ নিজ দুঃখ চিন্তা আছে।কর্ম গুনে সবাইকে সবার ফল ভোগ করতে হয়।এরকম ভাবাটা তোমার ভুল ধারনা বৎস। কিন্তু ভক্ত তো কোন কিছুই শুনতে নারাজ।সারাক্ষন শুধু এক কথা। দিনের পর দিন এই ভক্তটি ঘ্যান ঘ্যান করেই যাচ্ছিল, আর ভগবান তাঁর অবুঝ ভক্তটিকে বুঝিয়েই যাচ্ছিলেন। এরকম বোঝাতে বোঝাতে ক্লান্ত হয়ে অবশেষে শ্রীহরি এক উপায় বের করলেন।   শ্রীহরি বললেন,আচ্ছা ঠিক আছে।তোমাকে আমি একটা সুযোগ দিচ্ছি নিজের ভাগ্য বদলানোর জন্য।ওই দেখো! ওই দূরে আমার মন্দিরের পাশে একটা বড় পুরোনো বৃক্ষ দেখা যাচ্ছে।ওই মন্দিরে যে বা যারা আসে, তারা সকলেই ওই বৃক্ষে  নিজের নিজের দুঃখ, কষ্ট,...

পারিবারিক জীবনের শত্রু

Image
ঋণকর্তা পিতা শত্রুর্মাতা চ ব্যভিচারিনী। ভার্যা রূপবতী শত্রুঃ পুত্রঃ শত্রুরপন্ডিতঃ।। (চাণক্য নীতিশাস্ত্র) অনুবাদঃ ঋণগ্রহনকারী পিতা, অসতী মাতা,অধিক সুন্দরী স্ত্রী এবং অজ্ঞ পুত্র পারিবারিক জীবনের শত্রু। তাৎপর্যঃ  কলিযুগের একটি লক্ষণ হলো গৃহশত্রু। কলিযুগ কলহের যুগ। বিশ্বজুরে মানুষ যুদ্ধে লিপ্ত - দেশের সাথে দেশের যুদ্ধ, দেশের ভেতরে যুদ্ধ, সম্প্রদায়ের সাথে সস্প্রদায়ের যুদ্ধ, এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও যুদ্ধ, কারও শান্তিতে বসবাসের জো নেই। ভক্তরা প্রশ্ন করতে পারেন, কৃষ্ণভাবনাময় গৃহস্থ জীবনে এসব বিষয় আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে কি? কিন্তুু ইসকন ভক্তদের মধ্যেও তো ব্যভিচার, পুনর্বিবাহ ও ঋণগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা দেখা যায়, তাই চাণক্যের নীতাশিক্ষা আমাদের জন্যও প্রযোজ্য। আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনকে একটি পরিবারের সাথে তুলনা করতে পারি। শ্রীল প্রভুপাদ প্রায়ই গুরুদেবকে পিতা এবং শিষ্যকে সন্তান হিসেবে বিবেচনা করতেন। সে জন্যেই পুত্র যদি বোকার মত আচরন করে বা নারী যদি অসতী হয়, তবে সেই প্রভাব সবার ওপর পড়বে। একই ভাবে ভক্তরা যদি পরিশুদ্ধ আচরন করে, তবে সমগ্র ইসকন পরিবারই উপকৃত হবে। প্রহ্লাদ মহারাজ বলেছেন যে, মন ও ইন...

নিজেকে বিচার করুন, কোন স্তরে আছেন

Image
🌿🌹নিজেকে বিচার করুন,কোন স্তরে আছেন🌹🌿 🌹🌿 "ভক্ত-অভক্ত কারো সমালোচনা করো না। প্রথমে নিজের অবস্থা দেখ, এবং চেষ্টা করো নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে। তোমার মধ্যে কি কোনো কামনা আছে? কোনো কুটিনাটি আছে কীনা? এ নিয়ে চিন্তা করো, তুমি অন্যদের নিয়ে চিন্তা করো না। শ্রীগুরু এবং কৃষ্ণ অন্যদের জন্য রয়েছেন। তুমি তাদের সাহায্য করতে কিছুই করতে পারো না, তাই তোমার কোনো অধিকার নেই সমালোচনা করার।🌿 -------🌿--------🌿-----শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর।

যে পাঁচটি কারণে জীব জড়বন্ধনে দায়ী

Image
মানব-জীবনরূপী তরণীটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, তাকে অবশ্যই পারমার্থিক উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত হতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, এই দেহটি পাঁচটি শক্ত শিকল দিয়ে জড় চেতনায় বাঁধা রয়েছে, যেগুলি হচ্ছে- (১) পারমার্থিক তত্ত্ব সম্বন্ধে অজ্ঞতার ফলে জড় দেহের  প্রতি আসক্তি, (২) দেহাত্মবুদ্ধির প্রভাবে আত্মীয়-স্বজনের প্রতি আসক্তি, (৩) বাড়িঘর, আসবাবপত্র, জমিজমা, সম্পত্তি, ব্যবসা ইত্যাদির প্রতি এবং জন্মভূমির প্রতি আসক্তি, (৪) পারমার্থিক জ্ঞানের আলোকের অভাবে রহস্যাচ্ছন্ন জড় বিজ্ঞানের প্রতি আসক্তি এবং (৫) ভগবান ও ভগবদ্ভক্তের পবিত্র প্রভাবশূন্য তথাকথিত ধর্ম  অনুষ্ঠানের প্রতি আসক্তি, উপরের ৫টি কারনেই আমাদের জড় বন্ধনের জন্য দায়ী আর হরিনাম জপ এই সকল জড় বন্ধন ছিন্ন করে। তাই সকলেরই হরিনাম জপ করে এই জড় বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া উচিত। হরেকৃষ্ণ।

ভগবানের নাম প্রচার

Image
🙏👉🌿💗ভগবানের_নাম_প্রচার❗ যখন শ্রীচৈতন্যদেব খুব ছোট ছিলেন, তখন তিনি খুব কান্না করতেন এবং কিছুতেই কান্না থামাতে চাইতেন না। তাই জগন্নাথ মিশ্র ও শচীমাতা একজন চিকিৎসকসহ অনেক লোককে ডেকে আনতেন- কিন্তু কেউ কোনো সমস্যা বের করতে পারতেন না। একদিন কয়েকজন মহিলা যখন বলতে লাগলেন, “হরিবোল! হরিবোল! হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। তৎক্ষণাৎ শ্রীচৈতন্যদেব কান্না বন্ধ করে হাসতে লাগলেন আর হাততালি দিতে লাগলেন। “ও.... এই হচ্ছে রহস্য! যখন আমরা হরিনাম করি তখন তুমি কান্না থামাও!” যখন তারা উঠে যেতে লাগলেন, তখন ভগবান আবার, “ওয়া, ওয়া” করে কাঁদতে লাগলেন। তাই তাদেরে আবার ফিরে আসতে হলো এবং আবারো কীর্তন শুরু করতে হলো- হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। তিনি আবার কান্না বন্ধ করলেন। যতক্ষণ তিনি জেগে থাকতেন, ততক্ষণ তাদের হরিনাম করতে হতো, অন্যথায় তিনি কান্না শুরু করে দিতেন। এভাবে সর্বক্ষণ কীর্তন চলতে লাগল। শিশু অবস্থাতেই ভগবান এরকমভাবেই তাঁর দিব্যনাম বিতরণ করতে লাগলেন।