জ্ঞানযোগে অব্যক্ত ব্রহ্ম উপাসনার ফল




👉জ্ঞানযোগে অব্যক্ত ব্রহ্ম উপাসনার ফল
ক্লেশঃ অধিকতরঃ তেষাম্ অব্যক্তাসক্ত চেতসাম্।
অব্যক্তা হি গতির্দুঃখম দেহবদ্ভিঃ অবাপ্যতে।।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১২/৫
অনুবাদঃ যাদের মন ভগবানের অব্যক্ত নির্বিশেষ রুপের প্রতি আসক্ত, তাদের পক্ষে পারমার্থিক উন্নতি লাভ করা অত্যন্ত কষ্টকর। কারণ অব্যক্তের উপাসনার ফলে কেবল দুঃখই লাভ হয়।
তাৎপর্যঃ যে সমস্ত অধ্যাত্মবাদীরা ভগবানের অচিন্ত্য, অব্যক্ত, নির্বিশেষ তত্ত্ব জানবার প্রয়াসী, তাদের বলা হয় জ্ঞানযোগী এবং যারা সম্পূর্ণরুপে কৃষ্ণভাবনাময় হয়ে ভক্তিযুক্ত চিত্তে ভগবানের সেবা করেন, তাঁদের বলা হয় ভক্তিযোগী। এখানে জ্ঞানযোগী এবং ভক্তিযোগীদের পন্থা যদিও পরিণামে একই লক্ষ্যে গিয়ে উপনীত হয়, তবুও জ্ঞানযোগে পন্থা অত্যন্ত ক্লেশসাপেক্ষ। কিন্তু ভক্তিযোগে সরাসরিভাবে ভগবানের সেবা করার যে পন্থা, তা অত্যন্ত সহজ এবং তা হচ্ছে প্রতিটি জীবের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। প্রতিটি জীবের কৃষ্ণভাবনাময় ভগবদ্ভক্তি অনুশীলন করা বা সর্বতোভাবে ভগবানের সেবায় নিয়োজিত হওয়া একান্ত কর্তব্য। কারণ সেটিই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ পন্থা। এই ভগবদ্ভক্তিকে কেউ যদি অবহেলা করে, তাহলে তার ভগবদ্ বিমুখ নাস্তিকে পরিণত হবার সম্ভাবনা থাকে। অতএব অব্যক্ত, অচিন্ত্য, ইন্দ্রিয়ানুভূতির ঊর্ধ্বে যে তত্ত্বের কথা এই শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে, সেই নির্বিশেষ ব্রহ্ম উপলব্ধির প্রতি বিশেষ করে কলিযোগে আকৃষ্ট হওয়া উচিত নয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তা করতে নিষেধ করেছেন।

Comments

Popular posts from this blog

জীবনের অন্তিম পরীক্ষা

যে পাঁচটি কারণে জীব জড়বন্ধনে দায়ী

সর্বত্র কৃষ্ণ দর্শন